গুরুদেবের বুদ্ধি-১ (যেভাবে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হয়)

মহাত্মা বা ঋষি হইবার আগে বাল্মিকী যেমন দস্যু রত্নাকর ছিলেন। তেমনি আমার পূর্বাশ্রমে (আই মিন আমার পূর্বের চাকুরীতে) আমার আরেক গুরুদেব ছিলেন যিনি যৎকিঞ্চিত বাউন্ডুলে ছিলেন।
আমার সেই গুরুদেব বাংলাদেশের এক বিশেষ স্থানের মানুষ ছিলেন, যে স্থানের মানুষদিগকে আমরা একটু অন্য চোখে দেখি তাহাদের বুদ্ধিমত্তার কারনে। তাহার মধ্যে স্থান গুনের দোষ বা গুন যাহাই বলিনা কেন কিছুটা ছিল কিন্ত আমার জন্য তিনি অন্তপ্রান ছিলেন।
তো আমার সেই গুরুর বুদ্ধির একটু পরিচয় দিচ্ছিঃ

একবার এক মন্ত্রনালয় থেকে গুরুর ব্রাঞ্চে অডিট টিম আসিল। গুরুর উপর দায়িত্ব পড়িল অডিটকে সামলানো। অডিটকে কিভাবে সামলাইতে হয় গুরু তা জানিতেন।
একদিন অডিট টিমের প্রধান গুরুকে বলিলেন,

“ আপনাদের ব্রাঞ্চে তো অনেক সমস্যা, মন্ত্রনালয় হইতে তো চিঠি খাইবেন।চাকুরী লইয়া যে আপনাদিগের টানাটানি হইবে“

গুরু কহিলেন “ সবি আপনাদের হাতে, কি করিলে একটু উপায় হয় বা নিস্তার পায় একটু যদি জ্ঞান দিতেন তো কৃতার্থ হইতাম”

“ঠিক আছে, আমি দেখিব কিভাবে আপনাদের সেইভ করিতে পারি। ভালো কথা আমার জন্য একটা গাড়ির ব্যবস্থা করিতে পারেন কি? ভাবিতেছি বউ বাচ্চা লইয়া বেড়াইব”

গুরু কহিলেন “ অবশ্যই স্যার, আপনার কখন লাগিবে আদেশ করুন”

“এই ধরুন না আগামী সপ্তাহের প্রথমে? “ অডিট প্রধান কহিলেন।

গুরু একটু ভাবিলেন কারন অডিটের কাজ এই সপ্তাহে শেষ হইয়া যাইবে তা তাহার মাথায় ছিল।
গুরু সহাস্যে উত্তর দিলেন “ ঠিক আছে স্যার, আপনি ভাবিবেননা আপনার জন্য আমরা আমাদিগের জিএম মহাশয়ের গাড়ী বরাদ্দ করিব “

গুরুদেব মনে মনে টেন্সিত হইলেন, আগামী সপ্তাহে কি করিয়া গাড়ী ম্যানেজ করিবেন, কারন জিএম মহোদয়ের গাড়িখানা নষ্ট ছিল। গুরুদেব একটা বুদ্ধি বাহির করিলেন।

যাহাই হোক, অডিট তাহাদের কাজ শেষ করিয়া, ব্রাঞ্চের দোষ অনেকটা কমাইয়া রিপোর্ট করিয়া প্রস্থান করিল।
পরবর্তী সপ্তাহে অডিট প্রধান আমার সেই গুরুকে ফোন করিল
“ মহাশয়, আগামী পরশু দিন আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে কক্সবাজার যাইতে চাহিতেছি, গাড়ি খানা একটু রেডী রাখিবেন “
গুরুদেব কাকুতি মিনতি করিয়া কহিল “স্যার আমি সব কিছু ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলাম কিন্ত ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার মহাশয় এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের জন্য গাড়ীটি চাহিয়া লইয়াছেন, ডিসি মহোদয় জিএম সাহেবের খুব ঘনিষ্ঠ লোক,তাই তাহার অনুরোধ ফেলিতে পারেননাই। স্যার আমি খুব লজ্জিত “

অডিট প্রধান কহিলেন “গাড়ি কখন আসিতে পারে?”
গুরুদেব কহিলেন “ স্যার তাতো জানিনে, কিছুদিনের মধ্যে আসিবে হয়তো আসিলে আমি মাস্ট জানাইব আপনাকে “

গুরুদেব এই ঘটনাটি আমাকে শুনাইলেন, বলিলেন, “বুঝিলে বৎস কিভাবে আমি হ্যান্ডেল করিয়াছি”?
আমি সুধাইলাম, হে গুরুদেব অডিট প্রধান যদি আবারো গাড়ি চাহিতেন তো কি বলিতেন?
“স্যার গাড়িখানা নষ্ট, গ্যারাজে দিয়াছি ঠিক করিতে “ সহাস্যে গুরুদেব কহিলেন।
আমিও হাসিলাম— জয় গুরুদেবের জয় — হঠাত মন হইতে একটা স্লোগান ধ্বনিত হইল

আরো পড়ুন

স্বর্গ প্রাপ্তি

কুলীনকুল সর্বস্ব (বাংলার প্রথম সামাজিক নাটক)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: